বাংলাদেশ, , সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

  প্রকাশ : ২০১৯-০৭-০৯ ২১:৪৮:০১  

সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলে বেড়িবাঁধ উপচে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মত্স্য ঘের ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। .

উখিয়া (কক্সবাজার) : পাহাড়ধসের আশঙ্কা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত হাজারও পরিবার। আষাঢ়ের ভারী বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গেছে আনজুমানপাড়া নাফ নদীসংলগ্ন প্রায় ২ হাজার একর চিংড়ি ঘের। নাফ নদীর বেড়িবাঁধের নাজুক অবস্থার কারণে পাহাড়ি ঢল ও নাফ নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে প্রতিবছরই চিংড়িচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পালংখালী এলাকার সাতটি গ্রামের শতাধিক বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।

চকরিয়া (কক্সবাজার) : উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বেশির ভাগ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় লামা-আলীকদমের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে পানির প্রবাহ বেড়েছে মাতামুহুরী নদীতে। সোমবার দুপুর ১টার দিকে নদীর পানি বিপত্সীমা ২৬ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ২৬ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় লক্ষাধিক জনসাধারণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামার কারণে পৌরসভার একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। দুপুর থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের গোবীন্দপুর, পহরচাঁদা অংশে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছেন চকরিয়ার ইউএনও নূরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমান।

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম): টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শঙ্খ নদের পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ি ঢলে শত শত ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙনের শিকার ঘরহারা মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

উপজেলার বাজালিয়া বড়দুয়ারা মাহালিয়া রাস্তার মাথা এলাকার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে সোমবার থেকে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিকেরা। এতে যাত্রীদের তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হয়। যাত্রীরা পানিতে ডুবে থাকা স্থান নৌকা, ভ্যান ও রিকশায় করে পার হচ্ছে। উপজেলার অর্ধশতাধিক মত্স্য প্রকল্প ডুবে চাষিদের কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কেওচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির আহমদ জানান, হাঙ্গরখালের বাঁধ ভেঙে বন্যায় ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত জানান, তার ইউনিয়নের বিশাল এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) : টানা পাঁচ দিনের মাঝারি ও ভারী বর্ষণে চন্দনাইশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মানুষ বাড়িঘর থেকে বের হতে পারছে না। এ কারণে খেটে খাওয়া লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলার কানাইমাদারী, বরকল, পাঠানদণ্ডী, জোয়ারা, আড়ালিয়া, ফতেনগর, হাশিমপুর ও জামিজুরী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশস্থ হাশিমপুর বড়পাড়া ও দেওয়ানহাট-সংলগ্ন পাটানিপুল এলাকায় পানি রাস্তার কানায় কানায়। মহাসড়কে পানি উঠে যেকোনো মুহূর্তে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের যোগাযোগ বিছিন্ন হতে পারে। জমি তলিয়ে যাওয়ায় আমন চাষাবাদের ভরা মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে।



ফেইসবুকে আমরা