বাংলাদেশ, , রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

‘এই শহরের হইহুল্লোড় আর গোলমাল ভালো লাগেনি ইউসুফের’ -ছাত্রনেতা মইন উদ্দীন

  প্রকাশ : ২০১৮-১০-২৯ ১৮:৩৬:০৮  

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিবিএম 

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারানো কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সদস্য, চকরিয়া পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ জয়ের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কাছের সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের সভাপতি ছাত্রনেতা মইন উদ্দীন।
নিচে তাঁর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“হোকনা দূরুত্ব শত হাজার কিংবা লাখো মাইল আকাশ তো একটাই” -প্রয়াত ছাত্রনেতা আবু ইউসুফ জয়।

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর আমি এতোটা কষ্ট আর কখনো পাইনি। এমন এক আপনজনকে হারালাম যে ছিলো আমার আত্নার পরম আত্নীয়, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, ভাই-বন্ধু সবই…

কক্সবাজার জেলার হাজারো ছাত্রলীগ কর্মীর মাঝে আমার হৃদয়ে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেয়া প্রয়াত ছাত্রনেতা ‘আবু ইউসুফ জয়’র মৃত্যুতে আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে৷
তার সাথে কাটানো আমার সময়গুলো আমি কোন ভাবেই ভুলতে পারছি না৷ কখনো তার মুখ মলিন দেখিনি শত কষ্টেও হাসিমুখে থাকতো সে। তার এক চিলতে হাসি আমার চোখের সামনে ভেসে ভেড়াচ্ছে…

অশ্রু ভরা দু’চোখে সবকিছুই ঝাপসা দেখছি আর বারবার মনে হচ্ছে ইউসুফ অপেক্ষা করছে ইশতিয়াক ভাইয়ের বাসার নিচে। আমি আসলেই সে ভাইয়ের সাথে দেখা করবে।
আমার প্রতি তার এতোই অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিলো লিখে শেষ করা যাবে না। সে সর্বদা আমার খোঁজ-খবর রাখতো আমিও চকরিয়ার ছাত্র রাজনীতিতে তাকে একটু বেশি অগ্রাধিকার দেয়াই ওখানকার সবাই বলতো ‘আপনি ইউসুফকে একটু বেশি ভালোবাসেন’।

চকরিয়া পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজান, সা-সম্পাদক পারভেজ, মাতামুহুরির সভাপতি হুমায়ন, মহেশখালীর সা-সম্পাদক পারভেজ বাবু এরা ছিলো ইউসুফের খুব কাছের সহযোদ্ধা।
সবাই একসাথে হয়ে আমাকে ফোন দিলে আমি সবার আগে তাদের সাথেই সময় কাটাতাম।
চকরিয়া উপজেলার সা-সম্পাদক রুবেলকে সেদিন বললাম- “ইউসুফ অসুস্থ, খবর নাও”। এর আগে ইউসুফের সাথে আমার অনেকক্ষণ কথা হয়। সে বুঝতেই পারেনি তাকে ‘ডেঙ্গুজ্বর’ মৃত্যুর জন্য তাড়া করছে।
আমি বললাম দ্রুত যেনো হাসপাতালে যায় পরে তাকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পরামর্শ দিলাম। তার সাথে শেষ কথাগুলো আমার কানে এখনো বাজে।

এর আগে চকরিয়ার দুইজন ছাত্রলীগ নেতা সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হলে আমি তাদের দেখতে চকরিয়া যায় ওইসময় ইউসুফের সাথে আমার শেষ দেখা৷ আমাকে কিছু স্ক্রীনশট দেখিয়ে সে বলেছিলো ‘আপনার ভাই ইউসুফ বেঈমান না’ ‘মরার আগেও বেঈমানী করবে না’। সে সত্যিই বেঈমানী করেনি। কোন প্রলোভন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে ছুঁতে পারেনি।
চকরিয়ায় সাঈদী ভাই আর কক্সবাজারে ইশতিয়াক ভাই এই দুইজনের প্রতি সে যথেষ্ট আস্থাশীল ছিলো৷ তাদের প্রতি তার সম্মান আর কৃতজ্ঞতার কথা সে সবসময় আমাকে জানিয়েছে।

কিন্তু চকরিয়ার নোংরা রাজনীতিতে ইউসুফ ছিলো একবারেই বেমানান। তাকে বছরখানেক আগে বিনা কারণে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করা হলো। মধ্যরাতে তাকে আমি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। সে নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে কিন্তু তার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও চকরিয়া থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। হয়তো কোন অদৃশ্য শক্তি আসামীদের শেল্টার দিয়েছিলো বলেই ইউসুফ তার উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলার কোন বিচার পাইনি।

সে আজ আমাদের মাঝে নেই, অনেক কিছুই বলার ছিলো আমি লেখার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু এ সমাজের কিছু কীট যারা ইউসুফের মতো গরীব ঘরের নীরিহ তরুণকে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছে তাদের দেখে ঘৃণা হয়। ইউসুফের মৃত্যুর পর অনেকেই অনেক রকম কুৎসা রটাচ্ছে, অনেকের মায়াকান্নায় আমি অবাক।
আমিই জানি তার জন্য কে কি করেছে? আমিই জানতাম কার প্রতি তার কতোটুকু কষ্ট ছিলো!
ইউসুফ আমার ভাই, সে পরপারে ভালো আছে। আল্লাহর ওয়াস্তে তাকে নিয়ে কেও নোংরা রাজনীতি করবেন না।

ইউসুফ বলেছিলো- “সময়ের সাথে কিছু সম্পর্কের নাম বদলে যায়, কিছু চেনা মানুষ অচেনা হয়ে যায়” (২৩ এপ্রিলের স্ট্যাটাস)।
“জীবনে কাওকে আঘাত করার আগে ভেবে নিবে নিজে আঘাত পেলে কেমন লাগে, মনে রাখা উচিত কাওকে কাদিয়ে বেশিদিন ভালো থাকা যায় না” (১৭ মে’র স্ট্যাটাস)।
“কল্পনাটাই সত্যি হোক, ভালোবাসার ইতি হোক” (২৬সেপ্টেম্বরের স্ট্যাটাস)।

এই শহরের হইহুল্লোড় আর গোলমাল ভালো লাগেনি বলেই অকালে হাসিমুখে চলে গেলো আমুদে মানুষটি…



ফেইসবুকে আমরা